Breaking News
Home / প্রথম পাতা / করোনার ভ্যাকসিন চেয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস

করোনার ভ্যাকসিন চেয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস

হামিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ চলছে বছরখানেক ধরে। এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরিতে বিশ্বের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আশার বাণীও শুনিয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও তার জার্মান অংশীদার বায়োএনটেক তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেতে কয়েকদিন আগে আবেদন করেছে। তাদের আবেদন নিয়ে দ্য ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশানে (এফডিএ) আলোচনার জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০২০ বৈঠকে বসবে।

এদিকে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর দেশের বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা ও ভারতের কোম্পানি সিরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে অক্সফোর্ড অস্ট্রাজেনেকা করোনা ভ্যাকসিন আমদানি-সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন প্রথম লটে সরকার ৩ কোটি ভ্যাকসিন আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ৩ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ দুই বার করে প্রতি ব্যক্তিকে দেয়া হবে। এর ফলে প্রথমে দেড় কোটি মানুষকে দেড় কোটি ভ্যাকসিন প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে দেয়া হবে। পরবর্তীতেও একই পরিমাণ ভ্যাকসিন একইভাবে ২৮ দিন পর পুনরায় ২য় ডোজ হিসেবে দেয়া হবে।

ভ্যাকসিন পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে কারা এটা পাবে তা নিয়েও সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য করোনার ভ্যাকসিন চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে । সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্রটি পাঠানো হয়েছে। পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী। তিনি বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য প্রায় ৩০ হাজার ভ্যাকসিন বরাদ্দ চেয়েছে সিভিল সার্জন অফিস। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার জনগোষ্ঠী হিসেবে ভ্যাকসিন পাওয়ার তালিকায় রয়েছে- সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল থেকে করেনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু করে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথম একজনের দেহে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০ এপ্রিল। এরপর পর্যায়ক্রমে গত শনিবার পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮০৪ জন ব্যক্তি। একই সঙ্গে সুস্থ্য হয়েছেন ৭৭৮ জন ব্যক্তি। প্রাণঘাতী ভাইরাসে এ জেলায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন ব্যক্তি।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন- ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ বা এর সংক্রমণ এড়াতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।

About admin

Check Also

আত্রাইয়ে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালন

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই(নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *