Breaking News
Home / ফিচার / যশোরের শার্শায় খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত গাছিরা

যশোরের শার্শায় খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত গাছিরা

শিমুল হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ প্রবাদ আছে ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’ যশোরের শার্শা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে গাছিদের। খেজুর গাছের অগোছালো শুকনা পাতাগুলো ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে নতুন চেহারায় আনছে গাছিরা।
রস বের করার জন্য গাছকে প্রস্তুত করে নলি ও ঠিলে (ভাড়) ঝুলিয়ে দিবেন। তারা এই রস দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু গুড় এবং পাটালি। একসময় যশোর সহ শার্শা উপজেলায় মাঠ এবং রাস্তার দুইধারে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ ছিলো।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই সব খেজুর গাছ। কিন্তু এখনো যে গাছ গুলো আছে তা থেকেই শীতের রস সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছেন গাছিরা। ছয় ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ।ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত এক উল্লেখযোগ্য ঋতু আর এই ঋতুতেই আসে শীত,,,সারা বছর অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছগুলোকে নতুন করে সুসজ্জিত করেন গাছিরা এবং রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন তারা।
এর ফলে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা শার্শা উপজেলার খেজুর গাছগুলো কদর বেড়েছে গিয়েছে। এখনো তেমন শীতের প্রভাব না পড়লেও খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। গাছের সংখ্যা অল্প থাকার কারণে চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছে অনেক গাছিরা।
এ ব্যাপারে গাছিরা বলেন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া রস,গুড় ও পাটালির দাম থাকে একটু চড়া। তবু এই রস নিতে ভুল করেন না সকল শ্রেণীর মানুষ। কাঁচা রস প্রতি ভাড় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে থাকে। আর পাটালী প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা।
এছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে তৈরী করা হয় আর্কষণীয় ও মজবুত শীতল পাটি।কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনসহ বন বিভাগের নজরদারী না থাকায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন প্রয়ই বিলুপ্তির পথে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে বেনাপোলসহ শার্শার বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুরের গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি।
এই গাছের জন্য বাড়তি কোন টাকা খরচ করতে হবে না। আর যেটা দিয়ে সকলের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। শার্শা উপজেলাতে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০টি খেজুর গাছ রয়েছে। সেখান থেকে কৃষকরা খেজুরের রস সংগ্রহ করবে এবং তা থেকে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি পণ্য তৈরি করে সেটা বাজারে ও বিক্রি করে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।

About admin

Check Also

নওগাঁয় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না সবজির চাষিরা

নাদিম আহমেদ অনিক, নওগাঁ প্রতিনিধি- সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় এবার সবজির উৎপাদন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *