Breaking News
Home / শেষের পাতা / ইবি অধ্যাপক মুঈদ রহমান ও অধ্যাপক আলমগীরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমান মিলল তাঁর নিজের প্রকাশিত প্রবন্ধে: আওয়ামীপন্থিদের নানা প্রশ্ন

ইবি অধ্যাপক মুঈদ রহমান ও অধ্যাপক আলমগীরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমান মিলল তাঁর নিজের প্রকাশিত প্রবন্ধে: আওয়ামীপন্থিদের নানা প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ আগষ্ট ভিসি ও ট্রেজারারের মেয়াদ শেষ হয়। প্রায় দুই মাস পর ভিসি নিয়োগ হলেও ট্রেজারার পদটি শুন্য আছে।  অর্থনৈতিক শৃংখলা রক্ষার ধারক বাহক পদটি শুন্য থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এরই মধ্যে ডজন খানেক সিনিয়র শিক্ষক দৌড়াঝাপ করলেও আওয়ামী বিরোধী দুজন শিক্ষক এগিয়ে আছেন বলে বিভিন্নসূত্র নিশ্চিত করেছে। এনিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অধ্যাপক মুঈদ রহমান ও অধ্যাপক আলমগীরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমান মিলল তাঁর নিজের প্রকাশিত প্রবন্ধে।
অধ্যাপক মূঈদ রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠোপোষক।বিভিন্ন সময়ে তিনি তার লেখা প্রবন্ধে বর্তমান আওয়ামী সরকারের সমালোচনা  সহ তিনি তার নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।গত ৯আগষ্ট, ২০২০ একটি জাতীয় প্রত্রিকার কলামে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হবার কয়েকটি গুনের ব্যাপারে বলেন তার লিখাটি ছিল এমন”বর্তমান সময়ে ভিসি হওয়ার অন্যতম গুণাবলি হল, সরকারি দলের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য হওয়া, সরকারি দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেনদরবার করা এবং সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ‘মিষ্টিভাব’ বজায় রাখা।
এ চারটি ‘গুণের’ কোনোটিই আমার নেই। তাছাড়া রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় যারা জীবিত আছেন তাদের মধ্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং কমরেড খালেকুজ্জামান আমার শ্রদ্ধার শীর্ষস্থানটি দখল করে আছেন, তাদের সম্পর্কের বিনিময়ে আমি বাংলাদেশের কোনো পদ গ্রহণ করব না। অতএব ভিসি হওয়ার সব পথ আমার জন্য বন্ধ।
 ১৫ নভেম্বর, ২০২০ একটি জাতীয় প্রত্রিকার প্রবন্ধে তিনি লিখেন যে,
অথচ প্রকৃত সত্য হল, কারও কাছে কোনো পদের জন্য একটি বাক্য বা একটি বর্ণও খরচ করিনি। কেউ যদি কিছু না চায়, তারপরও আগ বাড়িয়ে সরকার থেকে তাকে পদায়িত করার সংস্কৃতি কি হালের বাংলাদেশে আছে? তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদগুলো তো দলকানা লোকদের জন্য, এর বাইরে ভাবার সুযোগ আছে কি?
১৫ নভেম্বর, ২০২০ একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিক অধ্যাপক মূঈদ রহমানের প্রবন্ধে তিনি প্রফেসর আলমগীর হোসেন ভুইয়া সম্পর্কে লিখেন,আমার ছাত্রটি অত্যন্ত মেধাবী, সৎ, পরিশ্রমী, ভদ্র, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদিত অংশের সদস্য এবং প্রগতিশীল আচরণে সমৃদ্ধ। শুনেছি তাকেও ট্রেজারার হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তাই যদি হয় তাহলে তো কুৎসায় নামতে হবে। কিন্তু ওর তো কোনো নেতিবাচক দিক নেই। না থাকলেও তৈরি করতে হবে। শেষ পর্যন্ত তাকে অপবাদ দেয়া হল, আজ থেকে ৩০ বছর আগে তার নাকি বিএনপি সংশ্লিষ্টতা ছিল। মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে! ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একজন মানুষকে সামান্য একটি পদের জন্য একরাতে বিএনপি বানানো হল? এটা আওয়ামী সংস্কৃতির নতুন ধারা। কাউকে পছন্দ না হলেই বিএনপি-জামায়াতের তকমা লাগানো।
ছোটবেলায় একটা কথা শুনেছিলাম- ‘বাপ মরে গেছে সে জন্যে কান্দি না, কান্দি যমে যে বাড়ি চিনছে।’
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে তার প্রবন্ধ। তাদের মতে মুঈদ রহমান নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। আর আলমগীর হোসেন ভুইয়ার বিরুদ্ধের অভিযোগ পক্ষান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। কারন তিনি নিজেই সবকিছু জানেন। কথায় আছে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। যেলোক একটি বাক্য ব্যয় করেনি সেই মুঈদ রহমানের নাম যদি ইবি ট্রেজারার তালিকায় থাকে তাহলে তার লেখা পড়ে তাকে সত্যবাদী বলা যায়?
অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক মূঈদ রহমান বাসদ রাজনীতির সঙ্গে সরাসরীযুক্ত। এছাড়াও মাদকাসক্ত, অন্যের বৌ নিয়ে দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ এবং মেয়ে হল এর সামনে মাতলামী করা অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধু বিদ্বেসী মুঈদ রহমান ইবির ট্রেজারার পদ পেতে সরকারের বিভিন্ন মহলে জোর লবিং করে চলেছেন এবং বিশ্বশ্তসূত্রে জানা গেছে বর্তমান ভিসির অনুকম্পা নিয়ে ট্রেজারারের পদ বাগিয়ে নেয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।
একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ৯৫ সালে যোগদানের পর হতে বঙ্গবন্ধু পরিষদে যোগ না দিলেও হঠাৎ ২০২০ সালের শুরুর দিকে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত একাংশের কমিটির সদস্যপদে তাঁর নাম দেখা যায়। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারী বেলালের রুমমেট এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরীযুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তার পারিবারের প্রায় সকলেই বিএনপি মতাদর্শের।  এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে গত শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে জামাত-বিএনপি প্যানেলে ভোট দিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক প্যানেলকে পরাজিত করার অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন ভূঈয়া ট্রেজারার পদ পেতে সর্বোচ্চ তদবীর করছেন সরকারের বিভিন্ন মহলে। এক্ষেত্রে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সুপারিশ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
 ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. কে এম সালেহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আমাদের অগাত আস্থা আছে। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সৎ ও দক্ষ যেকোন অধ্যাপককে ইবির ট্রেজারারের দায়িত্ব দিয়ে ইবির উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখবেন বলে আমরা আশা রাখি।
উল্লখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের প্রায় সকল শিক্ষক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য হলেও গুটিকয়েক শিক্ষক অসম্মতি জানায়। তারমধ্যে অধ্যাপক মুঈদ রহমান ও অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া অন্যতম।
এছাড়া অধ্যাপক কাজী আখতার হোসেন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক সাইদুর রহমান, অধ্যাপক মাহবুবুল আরেফিন, অধ্যাপক শাহজাহান মন্ডল ট্রেজারার পদের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

About admin

Check Also

ঝিনাইদহে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ-ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের কলুপাড়া থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইসমাইল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *