Breaking News
Home / প্রথম পাতা / একের পর এক অভিযোগ,এমনকি পরবর্তীতে মামলা,আসামী ধরার নির্দেশনা মোতাবেক ধরার পর আবার ছেড়ে দেয়া হয়,পরবর্তীতে প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেরায় আসামী-ডেমরা থানা

একের পর এক অভিযোগ,এমনকি পরবর্তীতে মামলা,আসামী ধরার নির্দেশনা মোতাবেক ধরার পর আবার ছেড়ে দেয়া হয়,পরবর্তীতে প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেরায় আসামী-ডেমরা থানা

ক্রাইম রিপোর্টার-মোঃ ওমর ফারুক: ডেমরা থানার পাড়া ডগাইর,প্রধান সড়ক এর নিবাসী মোসাঃ লাকী,পিতা-মৃত,মোঃ কফিল উদ্দিন,এবং তার প্রতিবেশি মোঃ আবু তাহেরের বাড়ীর সওয়ারেজের ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রাই সময় মোসাঃ লাকীদের বাড়ীতে প্রবেশ করে,এবং সেই ময়লাযুক্ত সওয়ারেজের পানি মোসাঃ লাকী তাদের নিজ খরচে পরিষ্কার করতেন বলে তিনি জানান,এমনকি তিনি আরো জানান যে,এক সময় এই ময়লা পানি পরিষ্কারের টাকার কিছু পরিমান টাকা মোঃ আবু তাহেরের নিকট চাইতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন,এবং পরবর্তীতে একে কেন্দ্র করিয়া এবংমোসাঃ লাকীর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে উল্লেখিত গত ১৬/১০/২০২০ইং তারিখে মোঃ আবু তাহের,পিতা-অজ্ঞাত (২) মোঃ পাপ্পু,পিতা-মোঃ আবু তাহের,সর্ব স্থায়ী সাং- পাড়া ডগাইর,প্রধান সড়ক,থানা-ডেমরা, বিকাল আনুমানিক ৫ঃ০০ ঘটিকার সময় মোঃ আবু তাহেরের উল্লেখিত ঠিকানার বাড়ির সামনে দিয়ে মোসাঃ লাকী তার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তাকে একা পেয়ে পাড়া ডগাইর,প্রধান সড়কে এলোপাথারীভাবে মারধর করে,এমনকি মারধরের এক পর্যায় মোসাঃ লাকী  অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে গেলে তার গলায় পরিহিত ১০ আনা ওজনের দুইটি  স্বর্ণের চেইন,৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেন,যার বর্তমান বাজার মুল্য ৬০,০০০(ষাট হাজার)টাকা আছে বলে মোসাঃ লাকী জানান।এমনকি মোঃ আবু তাহেরের ছেলে মোঃ পাপ্পু তার হ্যান্ড বেগে থাকা নগদ ৫০,০০০(পঞ্চাশ হাজার)টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু লোকজন ওই অবস্থায় মোসাঃ লাকীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা করান,এবং চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ্য মনে হলে মোসাঃ লাকী তার পরিবারের সদস্যদের সাথে এবং আত্বীয়-স্বজনদের সহিত আলোচনা করে গত ২৭/১০/২০২০ইং তারিখে মোঃ আবু তাহের এবং তার ছেলে মোঃ পাপ্পু’র বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন,যার নং-৩২,যার ধারা-৩২৩/৩৭৯ বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন যে,গত ১৬/১০/২০২০ইং তারিখের অভিযোগ এবং ২৭/১০/২০২০ইং তারিখে দায়ের করা এজাহারের প্রেক্ষিতে উক্ত অভিযোগ ও মামলার তদন্তকারী সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ শাহ আলম তদন্ত করে তার প্রাথমিক তথ্য বিবরনীতে সত্যতার প্রমান উল্লেখ করেন এবং যার উদ্ধারে কিছুই নাই বলে মন্তব্য করেন।

৩২৩/৩৭৯ ধারা মতে আসামী ধরার জন্য বারংবার বাদী মোসাঃ লাকী তদন্তকারী অফিসারের শরনাপন্ন হলেও কোনো ফলপ্রসু জবাব পাননি বলে তিনি জানান।এই ব্যপারে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের সাথে সরাসরি কথা বলতে গেলে তিনি তাৎক্ষনিক তদন্তকারী অফিসার মোঃ শাহ আলম’কে আসামীকে ধরে নিয়ে আসার নির্দেশনা দিলেও পরবর্তীতে তাতেও বিলম্ব ঘটে।এক পর্যায় ১০/০১/২০ইং তারিখে এসআই মোঃ শাহ আলম তার সহকর্মী এএসআই মোঃ মাসুদ বেলা আনুমানিক ১২ঃ০০ ঘটিকার আগে পরে চিহ্নিত ১নং আসামী মোঃ আবু তাহের’কে আটক করে ডেমরা থানার ডিউটি অফিসার মোসাঃ নাজনীন এবং অপারেটর মোঃ রুহুল আমিন এর উপস্থিতিতে উক্ত থানার সেলে রেখে এস আই মোঃ শাহ আলমে এর নামে এন্ট্রি করে দিয়ে পরবর্তীতে তিনি তার কর্মস্থলে চলে যান বলে তার সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে তিনি জানান।

অথচ একদিকে আটক,আবার পরক্ষনে উক্ত থানা থেকে আসামীকে ছেড়ে দেয়া হয়।তাৎক্ষনিক উক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের সাথে অনেকবার ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।এমনকি উক্ত মামলার তদন্তকারী এস আই মোঃ শাহ আলমের সাথেও ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।অথচ ৩২৩ নং ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে,যে ব্যক্তি ৩৩৪ ধারায় বাবস্থিত ক্ষেত্র ব্যাতিরেকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে,তাহলে সেই ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদন্ডে,যাহার মেয়াদ এক বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে,বা জরিমানাদন্ডে,যাহার পরিমান এক হাজার টাকা হইতে পারে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবে বলে উল্লেখ করা হইছে।অপরদিকে ৩৭৯ ধারায় উল্লেখ আছে যে,যে ব্যক্তি চুরি করে,সেই ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদন্ডে যার মেয়াদ তিন বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা জরিমানাদন্ডে বা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হইবে।

এই ব্যপারে বাদী মোসাঃ লাকী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে,চিহ্নিত ১নং আসামী মোঃ আবু তাহের’কে আটক করে আবার ছেড়ে দেয়ার পর হতে তিনি আরো হিংস্র হয়ে পরে।এমতাবস্থায় বাদী মোসাঃ লাকী জানান যে,যে গনতান্ত্রিক দেশে প্রশাসনের শক্ত অবস্থানে থেকেও যখন এই সকল আসামীরা থানার সহযোগিতায় ছাড়া পেয়ে দিব্যি ঘুরে বেরায়,সেই দেশে আমাদের মত ভুক্তভোগিরা আদৌ উল্লেক্ষিত আসামীদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার পাবেন কিনা বলে তিনি তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাদী মোসাঃ লাকী আরো জানান যে,প্রশাসনের এই সকল প্রহশনের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে তিনি প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরনাপন্ন হবেন বলে তিনি তার সর্বশেষ মন্তব্য ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি এক পর্যায় তিনি কেদে উঠেন।

আরো উল্লেখ হয় যে,উক্ত থানার এই মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই শাহ আলমের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে আসামী ধরার পর পরই কোনো এক সময় কথা বললে তিনি জানিয়ে ছিলেন যে,সে এই নামে কোনো আসামী আটক করেননি,এমনকি আটক করা হয়নি।অথচ তার সহকর্মী এ এস আই মোঃ মাসুদের সাথে উল্লেখিত আসামী আটক করার পর তিনি (এ এস আই মোঃ মাসুদ)জানান যে,এস আই মোঃ শাহ আলমের নির্দেশে আসামী আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

About admin

Check Also

শ্রীনগরে হাঁসাড়ায় স্কুল গেইটে ফুট ওভার ব্রীজের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন 

মোহাম্মদ জাকির লস্কর : ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শ্রীনগরে হাসাড়া স্কুল গেইটে ফুট ওভার ব্রীজের দাবীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *