Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / বাগমারার বিলসুতিবিল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মৎস্যজীবিদের মানববন্ধন

বাগমারার বিলসুতিবিল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মৎস্যজীবিদের মানববন্ধন

আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারার বিলসুতি বিলের কার্ডধারী গরীর ও অসহায় মৎস্যজীবিদের উচ্ছেদ করে দিয়ে জোরপূর্বক বিলটি দখল করে রেখেছেন এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। বিলটি প্রভাবশালীরা দখলে নেয়ার পর থেকেই জেলেরা ওই বিলে আর মাছ ধরতে পারছেন না। ফলে বিল সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি গ্রামের ৮৪০টি মৎস্যজীবি পরিবারের সদস্যরা এখন চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এ অবস্থায় প্রভাবশালীদের কবল থেকে বিলটি উদ্ধার করে সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকার মৎস্যজীবি পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে খালিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে জোবেদা বৃদ্ধাশ্রম মোড় পর্যন্ত খালিশপুর বাজারের প্রধান সড়কের দুই পার্শ্বে দাঁড়িয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে খালিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সমিতির সাধারন সম্পাদক ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন হিরু, সাবেক ইউপি সদস্য আজিজার রহমান, নিমাই চন্দ্র সরকার, সৈয়দ আলী শেখ, জামিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রহিম উদ্দিন, শিশির মোবারক হোসেন, গোলজার রহমান ও জাহিদুল ইসলাম প্রেমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিলসুতি বিল সংলগ্ন ১০/১২ টি গ্রামের ৮৪০টি কার্ডধারী মৎস্যজীবি পরিবার রয়েছে। বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা ওই বিলে স্বাধীনভাবে মাছ চাষ ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার ১০/১২ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার দাপটে তাদের উচ্ছেদ করে দিয়ে বিলের মধ্যে দিয়ে অবৈধভাবে মাটি ফেলে বাঁধ ও বাঁশের বানার বেড়া দিয়ে মাছের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে দিয়ে বিলটি জবর দখল করে নেয়। এ অবস্থায় বিলে মাছ ধরতে না পারায় বিল সংলগ্ন এলাকার ৮৪০টি মৎস্যজীবি পরিবারের সদস্যরা এখন অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে চরম মানবেতন জীবন-যাপন করছেন।
বিলসুতি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী বলেন, ওই বিলের মধ্যে সরকারি প্রকল্প হিসাবে সম্প্রতি ১০টি দীঘি খনন করা হয়। এছাড়াও এই বিলের মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক কুয়া রয়েছে। এ সব দীঘি ও কুয়ায় মৎস্যজীবিরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্ত প্রভাবশালীরা ওইসব দীঘি কুয়াগুলোও জোরপূর্বক দখল করে নেয়ায় সেখান থেকেও মৎস্যজীবিরা বঞ্চিত হয়েছেন। কোনো মৎস্যঝীবিকে বর্তমানে ওই বিলে মাছ ধরতে দেয়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মৎস্যজীবি ওই বিলে মাছ ধরতে নামলে তাদের প্রায় ২০/২৫ পাউন্ড জাল কেড়ে নেয়া হয় বলে খালিশপুর গ্রামের সামশুল হক, আব্দুল মতিন, আব্দুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম, মোহাম্মদ আলী, আফজাল হোসেন ও কফিল উদ্দিন নামে কয়েকজন কার্ডধারী মৎস্যজীবি অভিযোগ করেন।
উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, কয়েক দিন আগে বিলের মধ্যে অবৈধভাবে দেয়া বাঁধ ও বাঁশের বানার বেড়া কেটে দিয়ে মাছের স্বাভাবিক চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এলাকার গরীব ও অসহায় মৎস্যজীবিদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

About admin

Check Also

“ডায়াবেটিসে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা”

বাংলাদেশে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *