Breaking News
Home / অর্থনীতি ও শিক্ষা / কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ চেয়ে সহযোগিতা পান না শ্রীনগরের কৃষক

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ চেয়ে সহযোগিতা পান না শ্রীনগরের কৃষক

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা: শ্রীনগরে এক উপ সহকারী কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে তার পেশাগত দায়িত্ব কর্ত্তব্যে অবহেলা করার অভিযোগ উঠেছে। কুকুটিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. সুজায়েতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। তারা অভিযোগ করেন উপ সহকারী অফিসারের কাছে ফসলের রোগ বালাই সংক্রান্ত সমন্ধে পরামর্শ চেয়েও তার কোনও সহযোগিতা পান না তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নের পাঁচলদিয়া, জুরাসার ও মুসলিমপাড়া গ্রামের টমেটো, কপি, লাউ, সিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদি জমির বেহাল দশা। বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে জমির সবজি গাছের পচন ও ফসল সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসময় লক্ষ্য করা যায়, পাঁচলদিয়া গ্রামের সবজি চাষী রিয়াজুল ইসলাম (৬০) প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে থাইল্যান্ডের হাইটম জাতের টমেটোর আবাদ করছেন তিনি। প্রায় গাছেই ইতিমধ্যে থোকায় থোকায় টমেটো ধরছে। তবে গাছগুলো নাভিদশা (ল্যান্ডব্যাগ) রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। এছাড়াও রিয়াজুলের ৪০ শতাংশ জমিতে ফ্রেস জাতের কপির জমিতেও ছত্রাকনাশক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে করে কপির গাছের পাতা গুলো সব লালচে হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। দিশেহারা কৃষক রিয়াজুল উপ সহকারী কৃষি অফিসারকে বিষয়টি জানানোর পরেও তার কোনও সহযোগিতা বা পরামর্শ পাননি বলে অভিযোগ করেন। এসময় ভুক্তভোগী কৃষক রিয়াজুল ইসলাম কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, ইউনিয়ন কৃষি আফিসারকে জমিতে রোগ সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিকবার জানানোর পরেও তিনি জমি দেখতে আসেননি। পরে উপায় না পেয়ে পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার ভোগদীয়ায় কৃষি অফিসে গিয়ে তাদের সাথে আলাপ করি। পরে তারা আমাকে পরামর্শ ও বিনামূল্যে কীটনাশক দেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে ওষুধ দিলে গাছের পচনরোধ হয়। তার পরেও আমার জমিতে প্রায় ৩ শতাধিক কাঁচা টমেটোসহ গাছ উঠাতে হয়েছে। কপি ক্ষেতেও রোগ দেখা দিয়েছে। সবজি চাষে লোকসান মুখ দেখতে হবে আমার।
এছাড়াও জুরাসার গ্রামের মোয়াজ্জেম হাওলাদার ও মুসলিমপাড়া গ্রামের সাইফুল শেখের সবজি জমিতে গিয়েও দেখা গেছে বিভিন্ন সবজির আবাদ রোগাক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। তাদেরও একই অভিযোগ বিশেষ মুহুর্তে কৃষি অফিসার সুজায়েতকে ডেকে তার দেখা পাননা তারা। তার কাছে কোনও পরামর্শ চাইলে সমাধানে তিনি এগিয়ে আসেননা। স্থানীয়রা বলেন, নিজেদের অর্থায়নে পরের জমি ভাড়া নিয়ে অনেকেই কষ্ট করে বিভিন্ন সবজির আবাদ করেন এখানের কৃষকরা। সবজি চাষাবাদে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা পাননা তারা। তবে রোগ-বালাই সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে দাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তারা।
কুকুটিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. সুজায়েতের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, এক সবজি চাষী আমাকে ফোন করে তার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই দিন উপজেলায় বিশেষ মিটিং থাকার কারণে যেতে পারিনি। পরে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনও সাড়া পাইনি।

About admin

Check Also

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নতুন জুটির  আগমন

বিপা চৌধুরী – করোনাকালীন সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অবস্থা যখন সংকটাপন্ন। সবাই যখন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *