Breaking News
Home / গ্রাম-গঞ্জ / শ্রীনগরে সরকারি আইন অমান্য করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

শ্রীনগরে সরকারি আইন অমান্য করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আইন অমান্য করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। এসব কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন শ্রীনগর সরকারি সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সানাউল্লাহ হক সানি, মনোয়ার হোসেন, শফিকুর রহমান, আতিকুর রহমান, ১নং মডেল প্রাইমারীর শিক্ষক ফরিদা আক্তারসহ বেশ কয়েকজন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। অন্যদিকে হিসাব বিজ্ঞান কোচিং সেন্টারের অনিক সাহা, ইউএসএ এফ-২১ দেলোয়ার হোসেন, অগ্রপথিক কোচিংসহ প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে শ্রীনগর বাজার ও এর আশ পাশের বিভিন্ন স্থানে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সরকারি আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী কোচিং বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পরেও শ্রীনগরের কোচিং সেন্টার গুলো এখনো বহালতবিয়তে বাণিজ্য করেই যাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল, দুপুর ও বিকালে পালাক্রমে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান। উপজেলার সদরে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া করে শিক্ষকরা গড়ে তুলেছেন প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার। জেএসসি-ডেডিসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষকরা দেধারছে এই বাণিজ্য চালাচ্ছেন! খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ষোলঘর একেএসকে উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীনগর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলালা স্কুল এন্ড কলেজ, হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ, বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়, বেলতলী জিজে উচ্চ বিদ্যালয়, রুসদী উচ্চ বিদ্যালয়, কুকুটিয়া কমলাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘড়া স্বরূপচন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বাড়ৈগাঁও ইসলামীয়া স্কুল এন্ড কলেজসহ উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় শিক্ষকই এ কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত। লক্ষ্য করা গেছে ছোট্র একটি রুমে ঘিঞ্চি পরিসরে ১ ঘন্টার কোচিংয়ে ২০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একত্রে পড়ানো হচ্ছে। এতে দায়সারা গোছের পাঠদান হলেও মূলত শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ১ ঘন্টা করে মাসে ১২-১৪ দিন তাদের পড়ানো হয়। তাদের কোচিং ফি বাবদ মাসে দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তারা আরো বলেন, কি করবো কোচিং না করলে পরীক্ষায় পাস করা দুঃস্কর হয়ে যায়। ক্লাসেতো আর সব কিছু পড়ানো হয়না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের পড়া লেখার যে মান সে হিসাব অনুযায়ী অনেকটা বাধ্য হয়েই ছেলে মেয়েদের কোচিংয়ে পড়তে দিতে হচ্ছে। এমনও শিক্ষক রয়েছে তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভাল নাম্বার পাওয়া যায়না। এর মধ্যে উপজেলার সরকারি স্কুল কলেজ ও এমপিও ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাসা ভাড়া নিয়ে নামে বেনামে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। আর সেখানেই সকাল, দুপুর ও বিকালে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান।
এ বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তারা কোচিং পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। আবার কেউ কেউ জানান, আমাদের অজান্তে কিছু শিক্ষক তাদের বাসা বাড়ীতে গোপনে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকেনা।
শ্রীনগর সরকারি সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সানাউল্লাহ সানির কাছে কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভ করে বলেন, আমি পড়াবোই। সব খানেই কোচিং চলছে। এটা কোনও বিষয় না! এছাড়া কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকা অন্যান্য শিক্ষকরা মুখ খোলতে রাজি হননি।
সরকারি সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরে আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একাধিকবার সানাউল্লাহ সানিকে কোচিংয়ের বিষয়ে নিষেধ করা সত্বেও তিনি কোনও কথার কর্ণপাত করেননি। বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ওমর আলী জানান, এ বিষয়ে সব শিক্ষকদের নিষেধ করা হলেও তারা তা মানছেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশ্রাফির কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি বেশী দিন হয়নি বিধায় সব কিছু চিনিনা জানিনা। তাই কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ
০৩/১১/১৯ইং

 

About admin

Check Also

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ১৬০০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ শীঘ্রই শুরু

মাহামুদুল হাসান (হিমু) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রধান বেহাল সড়কটি অবশেষে সংস্কার হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *