Breaking News
Home / ধর্ম ও জীবন / শিরক- ২য় পর্ব

শিরক- ২য় পর্ব

মাওলানা জহিরুল ইসলাম আজাদী : সম্মানিত পাঠকবৃন্দ।
গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম, রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন। যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন। দার্শনিক আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, “ইু ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, ড়ভ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, ভড়ৎ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব. এখন আমরা একথার সাথে মুসলমান হিসাবে সম্মতি প্রকাশ করতে পারি না। সমস্ত ক্ষমতার উৎস জনগণ একথার স্লোগান দেয়া একজন মুসলমানের জন্য শিরক। এমনকি প্রকাশ্য শিরক। কেননা সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালা। এ কথা কিছু সংখ্যক নেতানিত্রীরা বলে থাকেন জনগণকে অতি উৎসাহিত করার জন্য। তাদের ভোট লুট করে বাক্স ভরে অন্যায় ভাবে ক্ষমতা দখল করার জন্য। ক্ষমতালোভীরা তাদের ক্ষমতাকে আকড়ে ধরার জন্য জনগণকে এভাবেই শিরক এর মাধ্যমে ধোকা দিয়ে আসছে। এই শিরক জড়িত কথা কাজ ও আকিদা নিয়ে যারা মুসলমান হওয়ার দাবী করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “আল্লাহ কেবল শিরকের গুনাহই মাফ করেন না, এছাড়া অন্য যত গুনাহ আছে তা যার জন্য ইচ্ছা করেন তাকে মাফ করে দেন। যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছে সে তো বড় মিথ্যা তৈরি করল এবং বিরাট গুনাহ করল। (সূরা নিসাঃ ০৪: ৪৮) আল্লাহ আরও বলেন, “সে কথা স্মরণ কর যখন লোকমান (আঃ) তার ছেলেকে উপদেশ দিতে বলল হে আমার পুত্র! আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না। নিশ্চয় শিরিক খুবই বড় জুলুম। (সূরা লুকমান- ৩১: ১৩)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যার পক্ষে তার কাছে কোন দলিল, প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার রবের নিকট আছে। এমন কাফেররা কখনো সফলতা লাভ করতে পারে না ।(সূরা মুমিন-২৩:১৭)
তিনি আরও বলেন,“ (এসব কিছু জানা সত্ত্বেও) এসব লোক তার বান্দাহর মধ্য থেকেই কতককে তাঁর অংশ বানিয়ে নিয়েছে। আসল কথা এই যে, মানুষ সুস্পষ্ট নেয়ামত অস্বীকার করে। (সূরা- যুখরফ-৪৩:১৪)।
আমরা দেখতে পাই আমাদের দেশের কিছু নেতা নেতৃ নির্বাচন আসার আগে ওমরাহ করেন আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়। দেশে ফিরে হযরত শাহ জালাল (র) এর মতো বড়বড় আল্লাহর ওলিদের মাজারে গিয়ে বলে, বাবা গত নির্বাচনে জয়যুক্ত করে দিয়েছো, এইবারও পাশ করাইয়া দিও। এই সব মুশরীকদেরকে যারা সমর্থন দেয় বা দিবে তারা তো মশরীককে সমর্থন দিল। মুশরীককে যে সমর্থন দেয় সেও মুশরীক হয়ে যাবে এতে সে যত বড় তজবিওয়ালা হউক, যত বড় জুব্বা ওয়ালা হউক, যত বড় দাড়ি ওয়ালা হউক। এসব নেতা নেত্রীর আরো লক্ষন আছে, কোন লোক মারা গেলে নিরবতা পালন করা হয় ১মিনিট। নিরবতা পালন করার ব্যাপারে সমর্থন দেয়। এই দেশের অনেক পীর সাহেবরাও আছেন যারা এইসব ব্যাপারে কোন প্রতিবাদ করেন না।মুখ খোলেন না। কিছু বলতে রাজি হন না। হয়তো বা তাদের মুড়িদানদের সংখ্যা কমে যাওয়ার চিন্তা করেই তারা কিছু বলেন না। এমনকি বলে আমরা রাজনীতি ও করি না। পীরের পায়ে সেজদা দেওয়ার মত অভিশপ্ত ভাইরাস বাংলাদেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আল্লাহ বলেন : (হে রাসুল!) আপনি বলুন আমি তো আমার রবকে ডাকছি এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করি না। (আরো) বলুন, আমি তোমাদের জন্য ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখিনা।(সুরা জিন:৭২,২০,২১)
এখন আমরা নবীর নামে মিলাদ শরীফ পড়ি ও জিলাফী খাই। মুখে বলি নবী কে ভালোবাসী আসোলে নবীর চরিত্রের সাথে আমাদের কোন মিল নাই। উপরক্ত আয়াতে আল্লাহ তার রসুল কে সম¥ধোন করে বললেন । আপনি বলুন আমি আমার রবকে ডাকছি। আমরা আল্লাহকে ডাকি আবার মাজারে গিয়ে সাহায্য চাই। রাসুল বললেন! আমি তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করি না। আর আমরা শীরক ছাড়া চলতে পারি না। এর পরেও মুছলমান কি ঠিক থাকে। নাকি মুসরিক হয়ে যায়। উপরোক্ত আয়াত থেকে আরো জানতে পারলাম, রাসুল (সাঃ) আমাদের জন্য ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না।
আর এই দেশের কিছু নামধারী মুসলমান আছে গাড়ী চালাইতে গেলে এমন ও মাজার আছে যেখানে যাওয়ার পর তারা গাড়ী থামাইয়া দেয়, মনেকরে গাড়ী অনেক গতিতে চালাইলে গাড়ীর ইঞ্জিন বাষ্ট হয়ে যাবে। অথবা আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে। রাসুল (সাঃ) যদি ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে কী পীরসাব কবরে শুয়ে শুয়ে আপনার গাড়ীতে আগুন লাগাইয়া দেবে? পীরসাব কি এত খারাপ মানুষ? এই চিন্তা তো প্রকাশ্য শীরক। যেই রাসুল (সাঃ) উপকার করতে পারে আর আপনার পীরসাব কবর থেকে হোউক বা জিবীত থেকে আপনার কথা শুনবে অথবা আপনাকে সন্তান দিতে পারে। এটা কি করে সম্ভব? পার্লামেন্টে ঢুকতে শাথা নিচু করে ঢুকবেন। বা ঢুকতে হবে হিন্দুস্থানের রাজা এই পৃথিবীর নিকৃষ্ট বাদশা আকবর। যার এই রকম ষ্টাইল ছিল। রাজদরবারে ঢুকতে হবে মাথা নত করে। এই সিস্টেম বা আইন কি কোন মুসলমানের দেশে থাকতে পারে ? বা কোন মসলমান কি এই আইন দেশে কায়েম করতে পারে? দেখতে মুসলমান, চালচলনে খৃষ্টান বা মুশরীক। একটি স্বাধীন সার্বোভৌমত্ব ও মুসলামনের দেশে এগুলো হচ্ছে কি? এদের ব্যপারে রুখে দাড়াও, গনো আন্দোলন গড়ে তুলুন। এই নিকৃষ্ট অন্যায় গুলোর প্রতিবাদ করার তাওফিক ও হিম্মত আল্লাহ আমাদের কে দান করেন আমিন।
লেখক: চেয়্যারম্যান: মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বিক্রমপুর, ঢাকা।
চেয়্যারম্যান: দারুল কুরআন হযরত শাহ জালাল (রহ:) একাডেমী, শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ,
সভাপতি: জমিয়তুল মুফাস্সিরিন বাংলাদেশ সোসাইটি, মাদারীপুর জেলা শাখা।

About admin

Check Also

করোনার টিকা নিলেন সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম স্বপন

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি :করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিভিন্ন মহলের নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শ্রীনগরবাসী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *