Breaking News
Home / গ্রাম-গঞ্জ / নওগাঁয় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নামে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ

নওগাঁয় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নামে উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় টাকার বিনিময়ে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির আহবায়ক মাষ্টার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। গত ২৯ আগষ্ট সংযোজন ও সংশোধন করে আহবায়ক মাষ্টার হাফিজুর রহমান একক স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানান সমালোচনা। যোগ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে উৎকোচের বিনিময়ে নতুনদের স্থান পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। ইতোপূর্বে কমিটি গঠন নিয়ে ধামইরহাটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপজেলা ও পৌর আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে দলীয় কার্যালয়ে গত ১৯ জুলাই তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেছিল নেতাকর্মীরা।

কমিটি গঠন নিয়ে জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আমি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ, ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক জেলা বিএনপি নওগাঁ। আমি পত্নীতলা ও ধামুরহাট থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ফেসবুকে দেখে বিস্মিত ও অবাক হই। যাহা আমার জ্ঞাতার্থে নেই। এই কমিটির কোন রকম দায়ভার আমি বহন করিতে বাধ্য নই। এই কমিটির সকল দায়ভার আহবায়ক মোঃ হাফিজ মাষ্টার সাহেব এর উপর বর্ত্যায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক জনাব তারেক রহমান এর নির্দেশ ছিল সকলের সমন্বয়ে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটির অনুমোদন দেওয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হাফিজ মাষ্টার উনার একক সিদ্ধান্তে ও একক স্বাক্ষরে ফেসবুকের মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করেন যাহা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নওগাঁ জেলা শাখার ফেসবুক পেজে গত ২৯ আগষ্ট লিখা হয়েছে, ‘পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক মাষ্টার হাফিজ সাহেব উনার একক স্বাক্ষরে কমিটি অনুমোদন দেন ফেসবুকে। নওগাঁ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, আলোচনা সভা উক্ত কমিটি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক বৃন্দ। টাকার বিনিময়ে এই কমিটির দায়ভার নিতে চান না যুগ্ম আহ্বায়ক।’

জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি গত ১২ জুলাই ধামইরহাটের ফার্শিপাড়া মোজাফফর রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে কর্মী সভায় মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। ওই সভায় জেলা বিএনপির আহবায়ক হাফিজুর রহমান মাস্টারসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্র্তীতে গত ১৮ জুলাই রাতে জেলা থেকে ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কাজিপাড়া গ্রামের কাউসার হোসেন বুলবুলকে আহবায়ক এবং ফেরদৌস হাসান ও আখড়াজুল ইসলাম চৌধুরীকে যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়।
অপর দিকে, আজমল হোসেন চৌধুরী শাহানকে আহবায়ক এবং আমিনুল ইসলাম ও নুরল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটি ঘোষনার খবর ধামইরহাটে ছড়িয়ে পড়লে ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বিএনপির বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ যোগ্যদের বাদ দিয়ে উৎকোচের বিনিময়ে নতুনদের স্থান পাইয়ে দেয়া হয়েছে।

ধামইরহাট বিলুপ্ত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজুয়ান হোসেন বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা আওয়ামীলীগ থেকে দলে যোগদান করেছেন তাদেরকে স্থান দেয়া হয়েছে। যেখানে আহ্বায়কের একক স্বাক্ষরিক একটা পত্রের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হয়েছে। আবার শুনছি টাকার বিনিময়ে কমিটিতে অনেকে স্থান দেয়া হয়েছে। এতে করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমরা কমিটিকে প্রত্যাখান করেছি।
ধামইরহাট থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা একতরফা ও বৈষম্যমূলক। ২০০৮ সালে আড়ানগর ইউনিয়নের ইমরুল হাসান আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। কিন্তু তার নাম আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে। যে বর্তমানে আ’লীগ করছেন তার নাম কিভাবে কমিটিতে আসে। টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পত্নীতলা থানা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, কমিটিতে যাদেরকে স্থান দেয়া হয়েছে যারা দীর্ঘদিন দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা, এমনকি নির্বাচনেও বিরোধীতা করেছিল। আবার অনেক মাদকসেবীদেরও (মোজাম্মেল হক) স্থান দেয়া হয়েছে। যারা দুঃসময়ে দলের সাথে ছিলেন তাদেরকে বাদ দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তৃনমূল ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মাস্টার সমন্বয়ের কথা বলে দামাদামি করে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক মাস্টার হাফিজুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে যেসব প্রচারনা করা হয়েছে সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার বিরুদ্ধে এধরনের কোন অভিযোগ নাই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিনকে এ কমিটির কোন দায়ভার নিতে হবে না। কেন্দ্রে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

About admin

Check Also

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ১৬০০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ শীঘ্রই শুরু

মাহামুদুল হাসান (হিমু) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রধান বেহাল সড়কটি অবশেষে সংস্কার হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *