Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে স্কুল মাঠে ড্রেজারের পাইপ খেলাধুলা করতে না পেরে শ্রেনীকক্ষেই অবরুদ্ধ ছাত্র/ছাত্রীরা

কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে স্কুল মাঠে ড্রেজারের পাইপ খেলাধুলা করতে না পেরে শ্রেনীকক্ষেই অবরুদ্ধ ছাত্র/ছাত্রীরা

শ্রীনগর(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: কর্তৃপক্ষ যোগসাজসে স্কুল মাঠে ড্রেজারের পাইপ থাকায় মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের হাতারপাড়া গ্রামের ৭৭নং কবুতরখোলা হাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতে না পেরে শ্রেনীক্ষেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীরা।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবুতরখোলা গ্রাম থেকে আসা ড্রেজারের পাইপ হাতার পাড়া গ্রামে অবস্থিত ৭৭নং কবুতর খোলা হাতার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে স্কুলের পূর্ব পার্শ্বে হাতারপাড়া গ্রামের জুলহাস সারেং এর একটি জমি গত ০১ মাস যাবৎ ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করছে সৈকত নামে ঐ ইউনিয়নের এক যুবলীগ নেতা। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পুরাতন এই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে হাতার পাড়া ও কবুতরখোলা গ্রামের প্রায় ১৫০/১৬০ জন ছাত্র ছাত্রী লেখাপড়া করে। কবুতরখোলা গ্রামের কালাম মেম্বারের নাতি রাঢ়ীখাল ইউপি যুবলীগ নেতা সৈকত স্কুল কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সহিত যোগসাজসে ঐ স্কুলের সামনে থাকা একমাত্র খেলাধুলা করা মাঠটিতে বিস্তৃতভাবে ড্রেজারের পাইপ দিয়ে পার্শ্বে হাতার গ্রামের জুলহাস সারেং এর জমি ভরাট করতে দেয়। মাঠে বিস্তৃত ড্রেজার পাইপ থাকায় স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরার খেলাধুলা করতে না পেরে শ্রেনীকক্ষেই অবরুদ্ধ থাকে। ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণীকক্ষে অবরুদ্ধ থাকায় সরকারী কর্তৃপক্ষ প্রদেয় খেলাধুলার সরঞ্চাম ব্যবহার করতে পারছে না তারা। কোন ছাত্রছাত্রী মাঠের দিকেই যেতে চাইলে শ্রেনী শিক্ষক তাদের দ্রুত ডেকে শ্রেনীকক্ষে নিয়ে আসে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানায়, এভাবে দিনের পর দিন খেলার মাঠটি তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে দখল করে রাখলে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে না পেরে খেলাধুলার প্রতি অনীহা মনোভাব চলে আসবে। স্কুল সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার্থে ড্রেজার মালিক পক্ষকে কোন কিছু বলেনি।


এ ব্যাপারের ৭৭নং কবুতরখোলা হাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসু দেব মন্ডল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে বা কারা ড্রেজিং পাইপ স্কুলের মাঠের উপর দিয়ে নিয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। ঈদ ছুটির সময় এই কাজটি হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়ে ছিলেন, প্রশ্নের জবাবে তিনি না বলেন।


রাঢ়িখাল ইউপি চেয়ারম্যন বারেক খান বারি বলেন, এই বিষয়ে স্কুল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আমার চেয়ে ভাল বলতে পারবে। তিনি নিজেই বিষয়টি দেখেছেন।
স্কুল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফোনালাপে বলেন, মায়ের চেয়ে মাসির এত দরদ কেন। আপনারা এ সব বিষয়ে নাক না গলালে আমি ভাল মনে করি। আমার স্কুল কি ভাবে চলবে তা আমি জানি। আপনারা যা মনে চায় করেন।


শ্রীনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক কে বলা আছে কোন অনিয়ম হলে আমাকে জানাবে। সে কেন আমাকে জানালোনা, আপনাদের মাধ্যেমে জানতে হল। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

About admin

Check Also

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *