Breaking News
Home / গ্রাম-গঞ্জ / সিরাজদিখানে সিএনজি ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে ওসিকে শাসালেন ভাইস চেয়ারম্যান

সিরাজদিখানে সিএনজি ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে ওসিকে শাসালেন ভাইস চেয়ারম্যান

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সিএনজি না ছাড়ায় থানায় ঢুকে ওসিকে শাসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা ভাইস চেয়রাম্যান মঈনুল হাসান নাহিদের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বাছেদ এর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বাছেদ বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসাই। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আমিন মোহাম্মদ সিটির সামনের মহাসড়ক থেকে ১৪টি সিএনজি ও একটি পিকাপ থানায় নিয়ে আসি এবং প্রাইভেটকার ও মাইক্রো ভাড়ায় চলার বিধান না থাকায় ১২টি গাড়ীকে মামলা দেই। আমি থানায় আসার পর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান নাহিদ ২/৩ জনকে নিয়ে সকাল ১০ টার দিকে থানায় এসে সিএনজি ছেড়ে দিতে বলে। আমি সিএনজি না ছাড়ায় সে আমাকে শাসিয়ে বলেন আমি পদমর্জাদায় আপনার উপরে! আমাকে মেম্বার মনে করছেন? আমি বলছি আপনি এখনি সিএনজি ছেড়ে দিবেন। আমি তার কথা কর্ণপাত না করায় তিনি থানার বাইরে গিয়ে লোকজন জড়ো করে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। আমার লোকজন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
সিরাজদিখান উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি হামিদুল ইসলাম (রতন) জানান, সিএনজি থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে আমি থানায় গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ভাগিনা নাহিদ ওসির সাথে কথা বলতেছে। ভাগিনার কথায় ওসি সাহেব সিএনজি ছেড়ে না দেওয়ায় সিএনজির ড্রাইভাররা বিক্ষোভ করে। পরে অনেক কষ্ট করে আমি সেই বিক্ষোভ থামাই।
উপজেলা ভাইস চেয়রাম্যান মঈনুল হাসান নাহিদ জানান, গ্যাস লোড করার জন্য সিএনজিগুলো মহাসড়কে উঠলে এসময় হাইওয়ে থানা পুলিশ রবিবার সকাল ৬টার দিকে বেশকিছু সিএনজি আটক করেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও সকাল ৬টায় সিএনজি আটক করলে এতে সিএনজি চালকরা বিক্ষোভ করে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। অবরোধ বন্ধ করার জন্য সিএনজি চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, হাইওয়ে থানা পুলিশ ঈদের আগে দেখা করতে বলেছিল কিন্তু সিএনজি চালকরা করেনি তাই এই সিএনজিগুলো আটক করা হয়েছে। তাই আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে হাইওয়ে থানায় গেলে এবং সিএনজি ছাড়ার জন্য রিকুয়েষ্ট করলে ওসি সাহেব আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। তারপর আমি তাকে বলি পদমর্যাদায় আমি আপনার উপরে আমি। আমি কোনো মেম্বার না যে আপনি আমার সাথে এরকম ব্যবহার করবেন। তারপর আমি থানার থেকে বের হয়ে চলি আসি। বর্তমানে আমি ঢাকার বাহিরে আছি। পরবর্তীতে কি হয়েছে আমার জানা নাই।
এবিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) মোঃ রাজিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। এটি হাইওয়ে থানা পুলিশের বিষয় তাই আমাদের এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About admin

Check Also

নাগরপুরে ক্যাবল অপারেটরের মরদেহ ঝুলছিল বিদ্যুৎ এর খুটিতে 

আনিসুজ্জামান জুয়েল  (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কোনড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ এর খুটিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *