Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / শ্রীনগরে মামলাবাজ জুলহাসের অত্যাচারে দিশেহারা গ্রামবাসী

শ্রীনগরে মামলাবাজ জুলহাসের অত্যাচারে দিশেহারা গ্রামবাসী

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতাঃ মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে বাড়ৈখালী ইউনিয়নে বাড়ৈখালী গ্রামের মিথ্যাবাজ আইন শৃংখলা ভঙ্গকারী জুলহাস খন্দকারের মিথ্যা মামলা-হামলার অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে গ্রাম ছাড়া করার ঘটনার ঘটেছে। উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে, অনুসন্ধানে জানা যায়, বাড়ৈখালী গ্রামের জুলহাস খন্দকারের প্রতিহিংসার মাশুল গ্রামের অসহায় গরীব লোকদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে তাদেরকে গ্রাম ছাড়া করে রেখেছে। এমনকি জুলহাসের মিথ্যা মামলা থেকে বাদ পড়েনি এলাকার স্কুল পড়–য়া চতুর্থ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীর ছোট ছোট ছাত্ররাও। বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক আজ জুলহাসে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে বই খাতা ছেড়ে গ্যারেজের কাজ করে খায়। একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সৈকত ও নবম শ্রেণীর ছাত্র নিসান এ মিথ্যা মামলার কারণে আজ জেল হাজতে। ওই ছাত্রের জনম দুঃখিনি মা আজ চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করা নেই যেন এ মায়ের। সৈকত ও নিসানের মা দু‘চোখে অশ্রুভরা মুখ নিয়ে বলেন- পবিত্র রমজানে রোজা রেখেছি ছেলে শোকে কোন মতে দু‘মোঠ খেয়ে। ইফতারও হবে চোখের জলে এই তো আমাদের গরীব অসহায়ের জীবন। আপনারা মিডিয়ার লোক আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আমি অনুরোধ জানাই সরকার ও প্রশাসন যেন আমার ছেলের মিথ্যা মামলার সঠিক তদন্ত করে আমার ছেলের ভবিষতের সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দেয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হুমায়ন খন্দকারের বিধবা পতিœ সুরাইয়া বেগম অভিযোগ করেন বলেন- আমার স¦ামী মরহুম হুমায়ন খন্দকার ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি অসুস্থ্য থাকা অবস্থায় আমার দেবর জুলহাস খন্দকারকে তার অস্ত্র জমা দিতে পাঠালে দেবর জুলহাস অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার স¦ামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হুমায়ন খন্দকারের নামের পরিবর্তে সে সুকৌশলে তার নিজের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জুলহাস খন্দকার লিপিদ্ধ করান। তিনি আরো বলেন এ জলুহাস খন্দকার নানা সময় নানা কারনে আমি ও আমার সন্তানদের কাছে থেকে কৌশলে বিভিনè কাজের কথা বলেন নানা কাগজে স¦াক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে জানতে পারি আমরা নাকি আমার স¦ামীর রেখে যাওয়া স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি তার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এই বলে আমাদের উপরে অনেক অন্যায় অত্যাচার করে, আমাদের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে দেয়, আমার ছেলের বউকে মারধর করেন, আমার ছোট্ট নাতিকে মারে, আমি প্রতিবাদ করলে আমাকেও মারধর করে স¦ামীর ভিটে-মাটি ছাড়তে বাধ্য করেন। এমন কি আমার ঘরটি ভেঙ্গে নিয়ে যান। আমি আমার ছেলে-বউ-নাতি-নাতকুর দেরকে নিয়ে ঢাকায় চলে যায়, এদিকে জুলহাস খন্দকার আমার নামে ৫/৬ টি মিথ্যা মামলা দেয় মুন্সীগঞ্জ আদালতে। জুলহাস আমাকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে যাহার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বাদী হয়েছে পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ে করেছি।

মোজ্জাছাম খন্দকার অভিযোগ করে বলেন- বছর দু‘য়েক আগে জুলহাস খন্দকারের ভাতিজি গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করলে তার লাশ দাফন করাকে কেন্দ্র করে এ জুলহাস খন্দকার অনেক ঝামেলা করেন- আমি সহ গ্রামের আরোও তিন জন লোক তার ভাতিজি করব খুড়ে দেওয়ার অপরাধে আমি ও অপর তিনজন এবং তার ভাবী বীর মুক্তিযোদ্ধ হুমায়ন খন্দকারের স্ত্রীসহ সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যে মামলা আদালত থেকে আমাদের পক্ষে রায় পেলেও এ জুলহাস খন্দকার থেমে যাননি তিনি আবার উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠ বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানায়, জুলহাস খন্দকার গ্রামের অসহায় মানুষদের জমি জোড় পূর্বক দখল করে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিবাদ জানালে তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রাম ছাড়া করে। জুলহাস খন্দকার নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করলেও এলাকাবাসির জানামতে তিনি তার বড় ভাই মৃত হুমায়ন খন্দকার এর অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে, সে তার ভাইয়ের না লিখিয়ে তিনি তার নিজের নাম লিখান বলে জানা যায়। এ জুলহাস খন্দকার অন্যের জমি জোড় পূর্বক অবৈধ দখল করেন, সরকারী রাস্তার ইট-বালু চুরি করেন, স্কুলের ছাত্রদের মারধর, ফেরিওয়ালাকে বকাঝকা, রুটি বিক্রেতাকে মারধর করা, প্রতিবেশীর সাথে কারনে অকানে ঝগরা বিবাদ, অকথ্য ভাষায় গালা-গালি নানা অভিযোগ আমি ইউপি সদস্য হওয়ার সুবাদে আমার কাছে আসলে আমি প্রতিবাদ করায় আমার নামে এ পর্যন্ত ৪/৫টি মিথ্যা মামলা দিয়ে নানা হয়রানী করছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনে কাছে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার চাই এবং নিরিহ এলাকার বাসীর মুক্তিচাই।

নাম না প্রকাশের সর্ত্তে এলাকার অনেক কচি-কাচা স্কুল ছাত্র এবং ষাট উর্দ্ধ বৃদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন- এ জুলহাস খন্দকার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক বটে, কারন তার বাড়ীর সামনে ইসলামীক হাদিস ও বিভিনè মনিষিদের বানী লেখে রেখেছিলেন। আমরা যারা মুসলমান স¦ভাবত কারনেই এ লেখার দিকে নজর পরে তখন আমরাসহ অনেক পথচারই আগ্রহ নিয়ে এ লেখা পড়লে, তখনই এ জুলহাস ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানি মুলক মামলা দেন। এহেন আচনর থেকে গরীব ফেরিওয়ালাও বাদ পরেনি। আমাদের গ্রামের প্রায় ৬০/৭০জনের বিরুদ্ধে এধরনের মিথ্যা মামলা দিয়েছেন এ মিথ্যা মামলাবাজ জুলহাস। এখন আমরা যারা ভুক্তভোগী তারা এ পথ দিয়ে যেতেও ভয় পাই। কে জানে কখন কার বিরুদ্ধে কি মামলা কসে দেন তিনি। তিনি নিজেক একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করে এ পরিচয়ে আমাদের মত এ সহজ সরল মানুষগুলোকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা সরকার প্রশাসনের কাছে এ মিথ্যাচারে মিথ্যা মামলার হাত থেকে রেহায় পেতে চাই।

এ ব্যপারে বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে এ জুলহাস খন্দকার এলাকার নিরীহ অসহায় জনগনের উপর অনেক জুলুম অত্যাচার করে আসছেন। পথ ব্যবহারকারী মহিলা, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নানা অত্যাচার করছেন। চতুর্থ শ্রেণী ছাত্র থেকে শুরু করেন অষ্টম ও নবম শ্রেণীর ছাত্রদেরকে মামলা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত নিতেছে। জুলহাসের মিথ্যা মামলার ব্যাপারে আমাদের শ্রীনগর থানার সাবেক পুলিশ কর্মকতাদেরকে অবগত করলে সাবেক কর্মকর্তারা জুলহাস খন্দকারের বিরুদ্ধে এহন আচরনের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার বাসীর কাছে থেকে একাধিক জিডি করা পরামর্শ দিয়েছিলেন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কিন্তু এলাকাবাসী জুলহাসের বিরুদ্ধে জিডি মামলা করা সাহস পাননি। মামলার ভয়ে এবং রাত্রে বন্ধুকের ভয়ে ওনার সামনে কেউ যেতে পারেনা। কারণ ওনি মামলা দেয় ১০ হইতে ১২ বছরে ছেলেসহ এমন কি ফোর-ফাইবে পড়–য়া ছাত্রের বিরুদ্ধেও। আমরা এলাকার গন্যমান্য অনেক লোকজন নিয়ে তাকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত থাকার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে কোন ফল পাইনি। আপনাদের মাধ্যমে সঠিক তথ্য অনুসন্ধান করে পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসনের টনক নারানোর জন্য অনুরোধ করছি। যাহাতে শ্রীনগর থানার কর্মকর্তারা সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এলাকা বাসি শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। এই দাবি জানাই আমি। তিনি আরোও বলেন- জুলহাস নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেন, আমি সহ এলাকার বাসির প্রাণের দাবি তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না ? ব্যাপারটি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। ওনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বা দেশের কৃতি সন্তান কি না ? যদি প্রকৃত কৃতি সন্তান হয়ে থাকে তবে আমাদের অনুরোধ ওনি যেন এলাকাবাসির সাথে শান্তিপূর্ন ভাবে মিলে মিশে বসবাস করেন। আমার মনে হয় তিনি প্রকৃত কৃতি সন্তান না, যদি প্রকৃত কৃতি সন্তান হতো তাহলে তিনি জনগনের উপর এ অন্যায় অত্যাচর করত না। কারণ তার এই মিথ্যা মামলার কারণে এলাকার তিনজন স্কুল ছাত্র বর্তমানেও জেলে আছে। তাদের ভবিষৎ অন্ধকার। আপনাদের মাধ্যমে সরকারে কাছে আমার অনুরোধ সঠিক তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে এলাকাবাসি যেন অন্যায় অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাই এটাই আমার চাওয়া ও দাবি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জুলহাস খন্দকারে সাথে সাক্ষাতে জানতে চাইলে তিনি, এলাকাবাসির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া ব্যাপারে সত্যতা শিকার করে বলেন- তারা অন্যায় করেছে তাই এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।

বাড়ৈখালী ইউনিয়ন বাসীর অভিযোগ মিথ্যা মামলাবাজ ও আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী জুলহাস খন্দকার নিজে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও তার ভাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মৃত হুমায়ুন খন্দকার এর অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে সুকৌশলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নিজের নাম লিখিয়ে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে নিরীহ অসহায় দিনমজুর গ্রামবাসীর সাথে পান থেকে চুন খুসার মত ঘটনা ঘটলেই সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ ঘটনার রূপ রং বর্ধিত করে থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ঠুকে দিচ্ছে। আর সে মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে গ্রামের নিরীহ অসহায় মানুষকে। গ্রামবাসীর দাবী এর মুক্তি কোথায়।

 

About admin

Check Also

মোনালিসার মোহমায়া 

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন: তোমি  ? তুমি কি সেই ছবি ? যা  শুধু পটে আকাঁ এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *