Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / বেরিবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

বেরিবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

মোঃ ফয়সাল হাওলাদার বিশেষ প্রতিনিধি মানিকগন্জ ঘুরে এর

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দেওয়ান সাইদুর রহমান। তিনি ওই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি বেরিবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বেরিবাঁধ। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। তারা আশঙ্কা করছেন এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভেঙ্গে যেতে পারে ওই বেরিবাঁধ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দাসকান্দি, বয়রা ও ধুলশুরা এলাকার বেরিবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। নবজাগরণ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দুটি ড্রেজার বসানো হয়েছে নদীতে। ড্রেজার দুটি উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ার সাইদুর রহমানের বলে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।ড্রেজার বসানো হয়েছে পদ্মা নদীতে।
এদিকে, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন বর্ষা মৌসুমে তাদের ফসলি জমি বাড়িঘরসহ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দাসকান্দি, বয়রা ও ধুলশুরার কাছাকাছি একটি, এবং কাঞ্চনপুর এলাকায় আরও একটি ড্রেজার বসিয়ে কয়েক দিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেগুলো কার্গো জাহাজে করে বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রেখে বিক্রি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
নবজাগরণ এন্টারপ্রাইজের কর্মী করিম বলেন, পদ্মা থেকে এক কোটি সেফটি বালু বালু উত্তোলন করা হবে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হবে। এসব উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের লোকজনে দেখাশোনা করে বলে জানান তিনি।
নদীর তীরবর্তী মানুষ বলেন, পদ্মা থেকে যদি এভাবে বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে নদী ভাঙ্গা বৃদ্ধি পাবে। তখন আমরা কি করুম? তারা জানান, উপজেলার বয়রা, ধুলশুরা, হারুকান্দি, গোপিনাথপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ইতোমধ্যে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে নদী পারের কৃষি জমিতে।
জানা যায়, পদ্মার ভাঙ্গণে গত কয়েক বছরে হরিরামপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে পদ্মা নদীতে একটি বেরিবাঁধ নির্মাণ জরুরি হয়ে পরে। অনেক দৌঁড়ঝাপের পর প্রায় শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় বেরিবাঁধ। এতে পদ্মার ভাঙ্গণের কবল থেকে রক্ষা পায় বয়রাসহ কয়েকটি ইউনিয়ন।
এই কাজের সাথে যিনি যুক্ত ছিলেন তিনি হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. বিল্লাল হোসেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতায় বেরিবাঁধ নির্মাণ সফলতার মুখ দেখে।
সেই বেরিবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ১০০ বছরের সমস্যা ছিল নদী ভাঙ্গণ। সেই ভাঙ্গণ রোধ করার দাবিটা দিনদিন জোড়ালো হয়ে উঠে এলাকাবাসীর কাছে। এরকম একটি অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন তিনি এই উদ্যোগটা নেন। এবং আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম’র সাথে থেকে চেষ্টা করেছি এই কাজটাকে সম্পূর্ণ করতে। অবশেষে সফলও হয়েছি।
তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গণের হাত থেকে যখন মানুষ রেহাই পেয়েছে, তখন এভাবে পদ্মা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে একটি বিশেষ মহল এবং সেই বালু উত্তোলন করার কারণে নদীতে আবার ভাঙ্গণ দেখা দিবে, এটা হরিরামপুরের জনগণ মেনে নেবে না। আমরা হরিরামপুরবাসী মনে করি, এই বালু উত্তোলন করার কারণেই নদীতে আবার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, সেটি আমরা কোনভাবে বরদাস্ত করব না। এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে এটা অবশ্যই প্রতিহত করব।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদী প্রজন্ম বার্তাকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আমরা জানতাম পাবনা থেকে বালু আনা হচ্ছে, আর এখান থেকে আনলোড করা হচ্ছে। তবে এখন আপনার মাধ্যমে যেহেতু জানতে পারলাম, সেহেতু যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

About admin

Check Also

“ডায়াবেটিসে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা”

বাংলাদেশে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *