Breaking News
Home / উপ-সম্পাদকীয় / শ্রীনগরে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেইপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মোল্লা

শ্রীনগরে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেইপ্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মোল্লা

শ্রীনগর(মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা ঃ মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নেই, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মোল্লা ওরফে সামাদ স্যারের নাম। শ্রীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত এ শিক্ষক ইংরেজি ২০১২ সালে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে নাম না থাকায় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেননি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। বিষয়টি বিভিন্ন স্তরের শুভাকাঙ্খিসহ তার পরিবারকে ব্যাপক মর্মাহত করেছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে, শ্রীনগর উপজেলার কৃতি সন্তান, আব্দুস সামাদ মোল্লা ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। পিতা মরহুম কালু মোল্লা ও মরহুমা জহুরা বেগম দম্পতি ঘরে ইংরেজি ১৯৪৬ সালের ১ জানুয়ারী শ্যামসিদ্দি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। কিশোর বয়স থেকেই নরম স্বভাবের অধিকারী ও যথেষ্ট মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ইংরেজি ১৯৬৪ সালে স্যার জগদ্বিশ চন্দ্র বসু ইন্সষ্টিটিউশন থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ইংরেজি ১৯৬৭ সালে জগন্নাথ কলেজর বিজ্ঞান শাখা থেকে এসএইচসি ও ইংরেজি ১৯৬৯ সালে বিএসসি পাশ করে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকতার পেশাকে আপন করে নেন। জগন্নাথ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষন আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বারুদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ৬৬-এর ছয়দফা ও ৬৯-এর গণ অভ্যূত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অংশ গ্রহন করেন। ৭০-এর নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের হয়ে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালিত করেন। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল গাজীর কমান্ডে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুর্নঃগঠনের কাজে নিজেকে শিক্ষকতায়ই মগ্ন রাখেন। একজন যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করার বিনিময়ে কখনোই কোন কিছু পাওয়ার লোভ লালসা করেননি। তিনি বিশ^াস করতেন শিক্ষকতাই তাকে অনেক সম্মান দিবে আর ঘটেছেও ঠিক তাই। তিনি মরেও বেঁচে আছেন তার হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে, একজন সুনামধন্য শিক্ষক হিসেবে শ্রীনগর বাসীর অন্তরে। মুক্তিযুদ্ধে তার সহযোদ্ধোদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সামাদ স্যার ছিলেন অত্যান্ত সাদা মনের একজন মানুষ। “কোন কিছুর বিনিময়ে কোন কিছু পেতে হবে” এই নীতিতে বিশ^াস করতেন না। তিনি বিশ^াস করতেন কাজ করলেই কাজের সফলতা আসবে। তিনি বলতেন মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশের জন্য। দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন কর্ম করতে হবে। তাই তিনি যুদ্ধ শেষে শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর হাই স্কুলে গনিত বিষয়ে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে শ্রীনগর পাইলট হাই স্কুলে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত গনিতের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। ইংরেজি ১৯৯৪ সালে স্ট্রোক করে দীর্ঘ অসুস্থ্যতা নিয়ে ইংরেজি ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিজ বাসভবনে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে রেখে যান। তার মৃত্যুতে ছাত্র-শিক্ষকসহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের লোকজন শোক প্রকাশ করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম না থাকায় স্থাণীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করতে পারেনি। এব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল গাজী বলেন, সামাদ মাষ্টার আমার কমান্ডে আমার সহ যোদ্ধা ছিলেন। তবে কি কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম নেই এটা আগে জানতে পারিনি। গেজেটে নাম না থাকার কারনে আমরা তাকে “গার্ড অব অনার” দিতে পারিনি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তার মৃত্যুর পর “গার্ড অব অনার” দিতে না পারা যে কত কষ্টকর তা বলে বুঝাতে পারবোনা। আরো আটদশ জন মুক্তিযোদ্ধার মতো আমিও চাই মরনোত্তর হলেও সামাদ মাষ্টারকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। সামাদ স্যারের ছাত্র বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের ডাক্তার এনায়েত হোসেন বলেন, সামাদ স্যার অত্যান্ত ভালো মনের একজন মানুষ ছিলেন, গনিত বিষয়ে একজন দক্ষ শিক্ষক ছিলেন। সবচেয়ে গর্বের বিষয় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার কোন চাওয়া পাওয়া ছিলো না। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আব্দুস সামাদ স্যারের ছেলে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম রবিন বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পরিবারে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শ্রীনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছোট বেলা থেকে বাবার মুখে বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা শুনে শুনে বড় হয়েছি। আমিও শ্রীনগর সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, শ্রীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ধানমন্ডি ল‘ কলেজের আওয়ামী আইন ফোরামের সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দিন রাজনীতি করেছি। আমি গর্বিত আমার বাবা এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর দেখলাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম না থাকায় তাকে “গার্ড অব অনার” দেওয়া হলো না। তখন বিষয়টা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আমি ১৮ কোটি বাঙালীর ভাগ্য উন্নয়নের একমাত্র পরিচালক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, চারবারের নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। যেন আমার বাবাকে মরনোত্তর হলেও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এটা ব্যতীত আমি ও আমার পরিবারের আর অন্য কোন চাওয়া পাওয়া নেই।

About admin

Check Also

মোনালিসার মোহমায়া 

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন: তোমি  ? তুমি কি সেই ছবি ? যা  শুধু পটে আকাঁ এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *